ভিয়েতনামের চালের দাম গত সপ্তাহে দুই মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। কম চাহিদা ও ফসলের মান খারাপ হওয়ায় দেশটিতে খাদ্যশস্যটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ভারতে এ সময় চালের দাম স্থিতিশীল ছিল। ব্যবসায়ীরা জানান, কম রফতানি চাহিদা ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা খাদ্যশস্যটির দাম স্থিতিশীল থাকার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
হিসাব অনুযায়ী, ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম গত সপ্তাহে ছিল টনপ্রতি ৩৪৪-৩৫০ ডলার। এর আগের সপ্তাহেও দেশটিতে একই দামে চাল বেচাকেনা হয়েছে। এ সময় ভারতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চাল বেচাকেনা হয়েছে টনপ্রতি ৩৫০-৩৬০ ডলারে। কলকাতাভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর মতে, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি চাল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিয়েতনামের গত বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল টনপ্রতি ৪১৫-৪৩০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। এটি গত সপ্তাহের টনপ্রতি ৪২০-৪৩৫ ডলারের তুলনায় কম এবং ২১ আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন। মেকং ডেল্টার আনজিয়াং প্রদেশের এক ব্যবসায়ী বললেন, ‘চাহিদা এখনো নিম্নমুখী। এছাড়া সদ্য সংগ্রহ করা ধানের মান তেমন ভালো নয়।’
অন্যদিকে ভিয়েতনামের ট্রেড মিনিস্ট্রি বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চাল রফতানি সহজ করতে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর অধীনে দুই দেশের রফতানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, তথ্য বিনিময় ও লজিস্টিক সমন্বয় করা হবে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণ করলেও আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ বাধ্যবাধক নয়।
থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল গত সপ্তাহে টনপ্রতি ৩৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত সপ্তাহের ৩৩৭ ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি। ব্যাংককের এক ব্যবসায়ীর মতে, থাইল্যান্ডে চালের চাহিদা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত।
তিনি বলেন, ‘৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের জন্য মিয়ানমার ও পাকিস্তানসহ অনেক প্রতিযোগী দেশ রয়েছে, যারা আরো কম দামে পণ্য বিক্রি করে। ফসল সংগ্রহ চলমান থাকায় সরবরাহও বেশি।’